Sunday, April 22, 2012

চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ


প্রতিদিন ২৪ ডেস্ক
কেন্দ্রীয় নেতা ইলিয়াস আলী গুমের প্রতিবাদে ডাকা হরতালে চট্টগ্রাম নগরীর কয়েকটি জায়গায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এসময় পুলিশ বিভিন্ন এলাকা থেকে বিএনপির কমপক্ষে ১৪ জন কর্মীকে আটক করেছে বলে জানা গেছে।

এদিকে, হরতালের সমর্থনে নগরীর সাগরিকা এলাকায় বিএনপির নেতাকর্মীরা মিছিল বের করলে পুলিশ ধাওয়া দেয়। এসময় পুলিশ বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি আবদুল্লাহ আল নোমানকে বেশ কিছুক্ষণ একটি ভবনে অবরুদ্ধ করে রাখে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এছাড়া নগরীর নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ের সামনে নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে মিছিল বের করার চেষ্টা করলে প্রথমে পুলিশ তাদের পথরোধ করার চেষ্টা করেন। কিন্তু পুলিশি বাধা অতিক্রম করে বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল ও দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ করেন।
রোববার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের মহানগর শাখার সভাপতি ও কাউন্সিলর মনোয়ারা বেগম মণির নেতৃত্বে একদল নেতাকর্মী ওয়াসার মোড়ে জড়ো হন। কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে খণ্ড খণ্ড মিছিল আসতে শুরু করে। নগর বিএনপির সভাপতি আমির খসরু আসার পর সেখানে সমাবেশ শুরু হয়।

এসময় ওয়াসা মোড়ের অদূরে পিকেটাররা একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করলে পুলিশ অ্যাকশনে যায়। হালকা সংঘর্ষের পর পিছু হটলে বিএনপি নেতাকর্মীদের ধাওয়া দেয় পুলিশ।
নগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনার (উত্তর) এসএম তানভীর আরাফাত জানান, সংঘর্ষের সময় ওয়াসার মোড় থেকে গোয়েন্দা পুলিশ পাঁচজনকে আটক করেছে।
এছাড়া কোতয়ালী থানা পুলিশ কমপক্ষে তিনজনকে আটক করেছে বলে জানিয়েছেন নগর পুলিশের কোতয়ালী জোনের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল মাহমুদ।
পরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকারের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা নাসিমন ভবন কার্যালয়ের সামনে এসে অবস্থান নেন।
সেখানে এক সমাবেশে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘হরতালে সাধারণ মানুষের স্বত:স্ফূর্ত অংশগ্রহণ দেখে, মানুষ রাস্তায় নেমে গেছে দেখে সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। তারা বিএনপির পেছনে পুলিশ লেলিয়ে দিয়েছে। পুলিশ সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে ওয়াসার মোড়ে আমাদের উপর হামলা করেছে।
তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, ‘যতই হামলা করুন, পুলিশ দিয়ে মারুন, আমরা রাজপথ ছেড়ে যাবো না। আমাদের সাংবিধানিক অধিকার আপনারা কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করবেন না। মানুষের অধিকার নিয়ে ছিনিমিনি খেলে অতীতের স্বৈরাচারী সরকার টিকতে পারেনি। আপনারাও পারবেন না।

তিনি অবিলম্বে নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে খুঁজে বের করার জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানান।
পরে আমির খসরুর নেতৃত্বে মিছিল পুলিশের বাধা অতিক্রম করে আশপাশের এলাকা অতিক্রম করে নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে সকাল ৯টার দিকে নগরীর পাহাড়তলী থানার সাগরিকা এলাকায় আবদুল্লাহ আল নোমানের নেতৃত্বে বিএনপি নেতাকর্মীরা মিছিল বের করে। পুলিশ ধাওয়া দিয়ে ওই মিছিল ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেছেন, পুলিশ বিনা উস্কানিতে ধাওয়া দিয়ে ওই মিছিল ছত্রভঙ্গ করে আবদুল্লাহ আল নোমানকে রশিদ ভবন নামে একটি বাসার ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখেন। 

তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত পাহাড়তলী থানার ওসি মো.নূরনবী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘মিছিল ছত্রভঙ্গ হয়ে যাওয়ার পর আবদুল্লাহ আল নোমান নিজেই একজন নেতার বাসায় ঢুকে পড়েন। প্রায় দেড়ঘণ্টা পর তিনি আবার বের হয়ে মিছিল করেছেন।
মিছিল থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে যানবাহন ভাংচুর করায় ধাওয়া দেয়া হয় বলে জানান ওসি।
এদিকে পুলিশ ওই মিছিল থেকে তিনজনকে আটক করেছে। এসময় পুলিশ নগর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ হোসেন দীপ্তিকে আটকের চেষ্টা করলেও ধস্তাধস্তির পর আবদুল্লাহ আল নোমান তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যান বলে দলীয় নেতাকর্মীদের সূত্রে জানা গেছে।
হরতাল চলাকালে নগরী ও জেলার বিভিন্ন স্থানে অন্তত পাঁচটি যানবাহন ভাঙচুর করেছেন পিকেটাররা। সীতাকুন্ড উপজেলার জোড়া আমতল এলাকায় গাড়ি ভাঙচুরের পর পুলিশ তিনজন কর্মীকে আটক করেছেন বলে স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নগরীর রাজপথে বিএনপি নেতাকর্মীদের উপস্থিতি কমতে শুরু করেছে। হরতালকারীরা নগরীর নাসিমন ভবনে বিএনপি কার্যালয়ের আশপাশে অবস্থান নিয়েছেন।
একইসঙ্গে বেলা বাড়ার সঙ্গে নগরীতে যানবাহন চলাচলও আস্তে আস্তে বাড়তে দেখা গেছে।

No comments:

Post a Comment