Sunday, April 22, 2012

সুরঞ্জিত মন্ত্রী বানানো জাতির জন্য কলঙ্কজনক: কাদের সিদ্দিকী


প্রতিদিন ২৪ ডেস্ক
কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর আব্দুল কাদের সিদ্দিকী বীরোত্তম বলেছেন, দুর্নীতির অভিযোগে পদত্যাগের  কয়েক ঘণ্টা পর সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে দফতরবিহীন খামাখা মন্ত্রী বানানো জাতির জন্য যেমন কলঙ্কজনক, তেমনি পদত্যাগের ৩৩ মাস পেরিয়ে গেলেও সোহেল তাজের পদত্যাগপত্র গ্রহণ না করে তার একাউন্টে টাকা পাঠানোও এক প্রকার দুর্নীতি।

রোববার বিকেলে শিলা-বৃষ্টি ও ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন শেষে সখীপুরে এক কর্মী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি ইলিয়াস আলী প্রসঙ্গে বলেন, “আমাদের দল হরতাল সমর্থন করে না। কিন্তু এ হরতাল দেশের ১৬ কোটি মানুষের নিরাপত্তার জন্যে ডাকা বলে আমরা সমর্থন দিয়েছি।


এ সময় দলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান খোকা, টাঙ্গাইল জেলা কৃষক শ্রমিক জনতালীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম, মীর জুলফিকার শামীম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে তিনি শুক্রবার রাতে ব্যাপক ‍ঘূর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যান।

এ সময় তিনি বলেন, “সখীপুরের লোকজনের কর্মকাণ্ডে সৃষ্টিকর্তা নারাজ হয়েছেন। শাহ কামালের মাজার প্রাঙ্গণে মাসের পর মাস যাত্রা হাউজি চালানোর ফলে আওলিয়ারা নারাজ হয়েছেন। আর তাই সখীপুরবাসীর ওপর গজব নেমে এসেছে।

তিনি বলেন, “আল্লাহ যেন আমাদের ক্ষমা করে দেন। যাতে আর কোনো গজব নাজিল না হয়।

তিনি সখীপুরের মহানন্দপুর, জিতেশ্বরী, ইন্দ্রজানি, কালমেঘা, কচুয়া, জয়বাংলা, কুচুটিয়া, পাথরহাটাসহ বিভিন্ন গ্রামের ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেন।

উলে¬খ্য শুক্রবার রাতে ব্যাপক ঘর্ণিঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে সখীপুরের অনেক এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হচ্ছে কাঁকড়াজান ইউনিয়নের মহানন্দপুর, জিতেশ্বরী, তৈলধারা, গড়বাড়ি, সুরিরচালা, বাঘেরবাড়ি, ইন্দ্রজানি, ভুয়াইদ, কাজীরামপুর ও বৈলারপুর, কালমেঘা ইউনিয়নের কালমেঘা, তালেপাবাদ, আটিয়া, সলংগা, রাঙামাটিয়া, ফুলঝুড়ি, নাগেরচালা ও বেলতলি, গজারিয়া ইউনিয়নের জারিয়া, কীর্তনখোলা, কালিয়ানপাড়া, প্রতিমা বংকী পূর্বপাড়া ও ছোট পাথারপুর, কালিয়া ইউনিয়নের কচুয়া, বাশারচালা, সাড়াসিয়া, কাদের নগর এবং সখীপুর পৌরসভার কাহার্তা ও রামখাঁপাড়া।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে চার হাজার হেক্টর জমির ইরি-বোরো ধান, ৫০০ হেক্টর জমির শাকসবজি, ২০০ হেক্টর জমির কলা, ১০০ হেক্টর জমির আম বাগান, ১০০ হেক্টর জমির কাঁঠাল, ৫০ হেক্টর জমির পাট ও ৩০ হেক্টর জমির মরিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আজহারুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে আনুমানিক ২৫ কোটি টাকার ফসলের ক্ষতি হয়েছে। উপজেলা চেয়ারম্যান শওকত সিকদার বলেন, শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে উপজেলার ৩০টি গ্রামে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

No comments:

Post a Comment