প্রতিদিন ২৪ ডেস্ক
গতকাল শুক্রবার সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব অভিযোগ করেন।
১৯৯৬ সালে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে সুরঞ্জিত সেনকে পরাজিত করে একবার এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন নাছির উদ্দিন চৌধুরী।
শুধু রাজনীতি করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক কিভাবে হলেন তা তদন্তের দাবি জানিয়ে তিনি রেল মন্ত্রণালয় থেকে সরঞ্জিতকে প্রত্যাহারেরও দাবি জানান।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, সুরঞ্জিতের বাড়ি ঢাকার বিক্রমপুরে। তার পিতা দেবেন্দ্রনাথ সেনগুপ্ত চাকরির সুবাদে দিরাইয়ে বসতি গড়েন। যে সুরঞ্জিত ছোটবেলায় লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছেন অন্যের কাছ থেকে ধার-দেনা করে সেই ব্যক্তি শুধু রাজনীতি করে কিভাবে বিশাল বিত্তবৈভবের মালিক হলেন তা জানার অধিকার দেশের জনগণের আছে। দীর্ঘ দিন ধরে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য বর্তমানে রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে আপনারা একজন প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ হিসেবে চেনেন এবং জানেন। আমার বিশ্বাস ছিল একদিন এই মুখোশধারী অর্থলিপ্সু ও নির্বাচনী এলাকার মানুষের সাথে প্রতারণাকারী এই রাজনীতিকের আসল চেহারা প্রকাশ হবেই। তিনি মন্ত্রিত্ব গ্রহণের পরই রেলওয়ের কালো বিড়াল খুঁজছিলেন। এখন আলোচিত সেই ‘কালো বিড়াল’ নিজের পকেটে ঢোকানোর চেষ্টা করে ধরা পড়ে গেছেন।
লিখিত বক্তব্যে নাছির উদ্দিন চৌধুরী অভিযোগ করেন, ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা থাকাকালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত প্রভাব খাটিয়ে নির্বাচনী এলাকার ওয়াক্ফ এস্টেট ও অর্পিত সম্পত্তি দখল করে নেন। তিনি মোস্তফা চৌধুরী মোগল মিয়া এস্টেটের ৬০ ও ৩৩৮ নম্বর দাগের ৩১ দশমিক ২১ একর জমি দখল করে নিয়ে দিরাই-শাল্লা সমন্বিত মৎস্য ও কৃষি খামার প্রাইভেট লিমিটেড নামে একটি খামার করেন। কয়েক কোটি টাকার এ জমি দখল করে তিনি এস্টেটটিকে মাত্র দুই লাখ ৮৫ হাজার টাকা দিয়েছেন। সুরঞ্জিত ১৯৯৮ সালে একই স্টেটের আরো ১৫ দশমিক ৬০ একর জমি মাত্র এক লাখ টাকায় সাফকবলা করে দখল করে নিয়েছেন। এভাবে দুই দফায় মোট ৪৭ একর জমি বিভিন্নভাবে কাগজপত্র করে তিনি নিজের দখলে নিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন নাছির চৌধুরী।
তিনি আরো অভিযোগ করেন, সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত দিরাই উপজেলার চাঁদপুর, মজলিসপুর, কবিরপুর মৌজায় নিজের সৎভাই সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৭৫ বিঘা জমি দখল করে নিয়েছেন। চাঁদপুর মৌজার ২২৭৪, ২২৭৫ ও ২২৭৭ নম্বর দাগের মোট ৫২ শতাংশ জমির মালিক ছিলেন নগেন্দ্র চন্দ্র দেব। কয়েক কোটি টাকা মূল্যের এ অর্পিত সম্পত্তি নিয়ে নেন সুরঞ্জিত। তা ছাড়া দিরাই বাজারের ফৌজা মৌজার ৩৯ নম্বর দাগের কোটি টাকা মূল্যের ৪ শতাংশ জমি তিনি নিজের ছেলের নামে দলিল করে নিয়েছেন।
সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত জলমহাল, টিআর, কাবিখা ও হাওর রা বাঁধের বরাদ্দ নিয়েও হরিলুট চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ করে নাছির চৌধুরী তার ৪১ বছরের লুটপাট, দখলবাজি ও অন্যায়-অত্যাচারের তদন্ত করে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তকে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
কোটি কোটি টাকা মূল্যের এসব অর্পিত সম্পত্তি দখলপ্রক্রিয়ায় সুরঞ্জিত বাবু প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে প্রভাব খাটিয়ে কাজ আদায় করে নিয়েছেন। নাছির আরো বলেন, দিরাই থানাসংলগ্ন এই জমিতে তিনি বহুতল বিশিষ্ট ভবন (সেন মার্কেট) নির্মাণ করছেন। আজ শনিবার দিরাই পৌর সদরে মার্কেটটি উদ্বোধনের কথা ছিল। বর্তমানে উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে সুরঞ্জিত বাবু উদ্বোধনের সেই কর্মসূচি বাতিল করেন।
এলাকার জনগণ এ অত্যাচার-নির্যাতন থেকে রা পেতে চায় মন্তব্য করে নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এবার রেলমন্ত্রীর এপিএস ও রেলওয়ের জিএম ৭০ লাখ টাকাসহ ধরা পড়ায় এলাকার মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও আশার সঞ্চার হয়েছে যে, এবার বোধ হয় সুরঞ্জিতের অন্যায়-অত্যাচারের বিচার হবে।
No comments:
Post a Comment